বরই চাষে কোটি টাকার স্বপ্ন পূরণ মাস্টার্স পাস মাহবুবের
বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০ টাকা হতে ১১০ টাকা কেজি দরে বরই কিনে দেশের বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করেন তারা। বরইয়ের চাহিদা বাড়ছে। এতে চাষীদের সঙ্গে লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও।
কৃষি অধিদপ্তর জানায়, পুরো শার্শা উপজেলা জুড়ে বরইচাষ হলেও সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে বেনাপোল, বাগআঁচড়া, উলাশি, শার্শা ও কায়বা ইউনিয়নে। ৪-৬ মাসে ফলন ওঠে ঘরে। অক্টোবরের শেষে বরই তোলা শুরু হয়। চলে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
শার্শার পিঁপড়াগাছি গ্রামের ছেলে কৃষক মাহাবুবুর রহমান (৪৫) বরইচাষ করেই জীবন-জীবিকার অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, যা অন্যদের অনুপ্রাণিত করে। অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করে মাহাবুর এখন দুইটি বাগানের মালিক। গোটা বাগানজুড়ে বাউকুল, আপেলকুল ও নারকেলকুলের ভারে স্বল্প উচ্চতার গাছগুলো নুইয়ে পড়ছে মাটিতে।
বরই চাষী মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘মূলত এ পেশা বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য, সবাই লেখাপড়া করে চাকরির পেছনে ছোটে। আমি লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে এই বরই চাষের দিকে এগিয়ে যাই। ছোটবেলা থেকে আমার শখ একজন কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার। প্রথম বছর আমি ৫ বিঘা জমিতে বরই চাষ করি। সেখানে কিছু ইনভেস্ট করি। প্রথম বছরে আমি দ্বিগুণ লাভ করি। সেখান থেকে আমার কৃষির প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে বাগান বাড়িয়ে এখন ৩০/৩৫ বিঘা জমিতে বরই চাষ করছি। আমার বাগানে ৪০/৫০ জন শ্রমিক কাজ করে। সবাইকে নিয়ে আমি আমার জীবিকা নির্বাহ করি। আর যারা শ্রমিক আছে তাদেরও আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। বরই চাষে আমি এবং আমার এখানে যারা কাজ করেন সবাই খুব খুশি।’
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকায় বরইয়ের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা হচ্ছেন লাভবান। বরই চাষে সব ধরনের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন কৃষি অধিদপ্তর। আগামীতে এ উপজেলায় বরই চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’